করোনার সময়কার কথা। তখন সিক্স কি সেভেনে পড়ি। স্কুলে নতুন নতুন অনলাইন ক্লাস নিতে শুরু করছে। মজা। একদিন স্যার জ্যামিতি পড়াইতেসিলেন। উপপাদ্য। ধরা যাক, স্যারের নাম spitting cobra । খাতা কলমে ক্লাসের ডিউরেশন এক ঘন্টা হলেও আমার দুর্ভিক্ষপীড়িত স্কুলের প্রিমিয়াম সফটওয়ার কেনার টাকা ছিলো না। তাই যা করার, জুমের চল্লিশ মিনিট টাইম লিমিটের মধ্যেই করা লাগতো। সবার মাইক ঠিক করা আর স্যারের ক্যামেরা চালু করতে করতেই বিশ মিনিট সময় শেষ হয়ে গেছে অলরেডী। স্যার এখন পড়ানো শুরু করবেন। আমি সেইরকম feel নিয়ে বসে আছি। অনলাইন ক্লাস করবো! সেই ফিউচারিস্টিক জিনিস। যাইহোক, স্যার বললেন, অ্যাঁই বাবারা, উপপাদ্য দুই বের করো। এতো নাম্বার পৃষ্ঠায় আছে। ক্লাসের অতি punctual ছেলেপেলে webcam চালু রেখে পৃষ্ঠা ওল্টাচ্ছিল বইয়ের। পিনিক শব্দের মানে তখনও না জানলেও, পোলাপান যা করতেছিলো, ঐটারে যে ‘পিনিক’ বলে সংজ্ঞায়িত করা যায়, অনুমান করতে পারসিলাম। হালকা কয়েক সেকেন্ড পর স্যার জিজ্ঞাসা করলেন, বাবারা বের করেছো? সবাই সমস্বরে ‘জ্বি স্যার! হ্যাঁ স্যার!’ বলা শুরু করছে দেখে আমিও বলে ফেললাম, ‘জ্বি স্যার’। কিন্তু হোমাসা, আমার ভলিউম একটু বেশিই লাউড ছিলো। স্যার কইলেন, হিমেল, বিশেষ নির্বচনটা একটু পড়ে শোনাও তো! এইদিকে আমার হাতের কাছে বই থাকা তো দুর, বই আদতে বাসার কই আছে সেইটাও জানিনা। করোনার মধ্যে পড়ে কে? বই খায়ে ফেলছি। কোনমতে মাইক বন্ধ করে এই ড্রয়ার - ওই ড্রয়ার বই খোঁজা শুরু করলাম। জানি, বই নাই। খুঁজে পাওয়ার প্রোবাবিলিটি জিরো। তারপরও। কথায় আছে A drowning man catches at a straw। খায়ে দিলাম জুমের ফ্রী চল্লিশ মিনিটের মাঝে বাকি থাকা বিশ মিনিটের প্রথম দশ মিনিট। স্যার রেগে আগুন। আমাকে গালি দিতেসিলেন, আর তার মুখ থেকে থুথু বের হয়ে ওয়েবক্যামে পড়তেছিলো। পরে অবশ্য প্রজাতিগত এ বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে স্যারের নাম স্পিটিং কোবরা রাখা হয়। আমি ভদ্র ছেলে, জীবনেও স্যারের গালি খাইনাই। তারমধ্যে স্যার আবার থ্রেট দিসেন আমার নামে নাকি হেড স্যারের কাছে কমপ্লেইন রেইজ করবেন। যদিও পরে কিছুই হয়নাই। সামনের দিনগুলাতে বিজ্ঞান ক্লাবের কারণে স্যারের সাথে অনেক ভালো সম্পর্ক তৈরি হয় আমার।
(স্কুল জীবন বলতে গেলে শেষ। এসএসসি দিতেছি। সোমবার math exam। এখন শনিবার রাত তিনটা বাজে প্রায়, মাঝ রাত্রে ঘুম মুলতবি করে পড়তে বসছিলাম, জ্যামিতি দেখতে নিয়ে এই গল্প মনে পড়লো। ইদানিং সবকিছু লিপিবদ্ধ করার নেশা হইছে, এইটাও লেখে রাখলাম।)