জাতি হিসেবে ভারতীয়রা ইন জেনারেল একটু বেশিই ডিল্যুশনাল। ইলেকশনের আগে, এদের মুখে মুখে ‘Trump sirr’ ‘Trump saaarr’ চলতো। As if that bloody maggot was gonna do their chores. এমনকি ওদেশের কিছু স্টেইটে তো ‘ট্রাম্প দেবতার’ পূজাও শুরু হইছিলো। এখন, জিওপলিটিক্সের গেইমে, অর্থনীতির এই নিও-কোল্ড ওয়ারে, ভারত ওয়েস্টের সাথে এলাইন করতে পারতেসে না। রাশিয়ার ‘ব্যান’ খাওয়া তেল ওরা পাইকারি দরে কিনে নিয়ে, বাকি দুনিয়ার কাছে সেইটা ‘ভারতীয়’ তেল হিসাবে চালায়ে দিতেছিলো। ব্যাপক লাভ। এমনকি ওয়েস্টার্নদের কাছ থেকে ‘টেরোরিস্ট’ তকমা পাওয়া ‘ইরানের’ সাথে ‘এক্সক্লুসিভ পোর্ট এগ্রিমেন্ট’-এও স্বাক্ষর করেছে আমাদের পাশের দেশ। অথচ সেই দেশই আমাদের ‘সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা’ নিয়ে গ্রে প্রপাগাণ্ডা চালায়। দ্বিচারিতা। সেলুকাস।

যাইহোক, আমেরিকার মোট ভোট ব্যাংকের একটা বড় অংশ হলো ভারতীয় বংশোদ্ভূত লোকজন। ইলেকশনের আগে, প্রতিপক্ষ কমলা হ্যারিস ওদের ভোটগুলো বাগিয়ে নেওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে ছিলো, কারণ তার মধ্যেও ভারতীয় রক্ত আছে। দাবায় যেমন ব্রিলিয়ান্ট মুভ দেওয়া যায়, সেইরকমই একটা মুভ পলিটিক্সে দিলো ট্রাম্প। একটা টুইট করলো সে, ‘হিন্দু নির্যাতন নিয়ে সে শংকিত’। ব্যাস, ভারতীয়দের অর্গাজম শুরু হয়ে গেলো। ট্রাম্প স্যাআআরর তাদের ত্রাণকর্তা বনে গেলেন রাতারাতি। কমলা হ্যারিস খুব একটা সুবিধা করতে পারলেন না, এমনিতেও ডেমোক্র্যাটরা এইবার খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলো না। দেলুলু জাতি ট্রাম্প ‘স্যাআআররর’ এর ফ্রি প্রোমোশন করে দিলো। একশো কোটির দেশ। টকশো বাদ দেন, ওদের ফেইসবুক পোস্ট আর হোয়াটসঅ্যাপ টেক্সট দিয়ে ওরা যে লেভেলের প্রচারণা চালাইছে ট্রাম্পের, সেইটা টাকা খরচ করে পাইতে গেলে ট্রাম্পের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হতো।

ট্রাম্প ভোটে জিতে গেলো। দেলুলু জাতিগোষ্ঠীর মুখে একটাই কথা, ‘ট্রাম্প সাররর’ বিশ জানুয়ারি ক্ষমতায় বসে দুনিয়া উদ্ধার করে ফেলবেন। পাজিতরা তার পদলেহন করে সেইটা চরণামৃত হিসেবে পান করতে প্রস্তুত।

কয়েক মাস গেলো, ট্রাম্প ক্ষমতায় বসার। এখন অবশ্য আমাদের প্রতিবেশীরা ট্রাম্পকে ‘সারররর’ বলে ডাকে না। ট্রাম্প একজন আপাদমস্তক বিজনেসম্যান। পাগলাটে স্বভাবের। ভারতের বিজনেস পলিসি আমেরিকার জন্য ক্ষতির কারণ হচ্ছে, এইটা সে মেনে নিতে পারেনি। শুধু ভারতই না, যে যে দেশের বিজনেস পলিসি তার নিজের দেশের জন্য ‘সুবিধাজনক’ না, সেই সেই দেশের ওপর সে চড়া ট্যাক্স বসিয়ে দিয়েছে। ভারতের ওপর সেই ট্যারিফের পরিমাণ ৫০% ! মানে, ভারতে তৈরি ১০,০০০ টাকার জিনিস আমেরিকায় বিক্রি করতে গেলে সেইটার দাম বেড়ে হয়ে যাবে ১৫,০০০ টাকা! বাংলাদেশী একই পণ্য সেখানে ১২,৫০০ টাকার আশেপাশে যেতে পারবে।

অবস্থা খানিকটা বেগতিক। নতুন ‘সাররর’ খুঁজতে হবে। ট্রাম্পকে দিয়ে আর হচ্ছেনা। Anti-west দেশগুলো একত্রিত হইছে, সাথে আছে চীন আর রাশিয়া। যেই চীনকে ভারতীয়রা উঠতে বসতে গালি দিতো, পাকিস্তানকে যেই চীন লিটারেলি সবকিছু দিয়ে সাহায্য করতেছে, যেই কাশ্মীরের অর্ধেক গ্যাঞ্জাম চীনের সাথে, যেই চীন ভারতের সবচেয়ে সেনসিটিভ জায়গা, সেভেন সিস্টার্সের পুরা একটা স্টেইট, অরুণাচল প্রদেশ, নিজেদের বলে দাবি করে, প্রতিনিয়ত যুদ্ধ হয়, তাদের সাথে আপনার দেশের ‘সন্ধি’ স্থাপন করা লাগতেসে। লজ্জা করেনা? পাকিস্তান নাকি টেরোরিস্ট দেশ। ওদেরকে যারা আপাদমস্তক সাপোর্ট করে, তাদের কাছে যেয়ে আপনার অবতার, ‘মেদিজি’ ধর্না দিতেছে?

মিডিয়া আপনাকে যেই ন্যারেটিভ গেলাবে, আশেপাশে যা দেখবেন, তা-ই বিশ্বাস করবেন? আচ্ছা, আপনাদের ‘থট প্রসেসকে’ কন্ট্রোল করা এতো সহজ কেন?

বাবুভাই, পলিটিক্সে কোনো ‘সারররর’ হয়না। দাবা খেলায় সৈনিকদেরকে যেমন স্রেফ ইউজ করা হয়, তেমনি আপনাকে ইউজ করতেসে পলিটিশিয়ানরা। আপনি যত লাইফলেস, এই নোংরা গেমের অংশ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আপনার ততো বেশি। নো বডি ফাকিং কেয়ারস এবাউট ইয়্যু। নট আ সিংগল পলিটিশিয়ান। ওরা মসনদে বসেছে ধনিকগোষ্ঠীর মনজয় করতে, গোদী শক্ত করতে। আপনি জাস্ট ওদের খেলার অংশ। তাই, খেলবেন যখন, চোখ-কান খোলা রেখেই খেলেন।

সাইডনোট: ট্যারিফ ইস্যুর সমাধান বা উন্নতি, যা-ই বলিনা কেনো, খুব দ্রুতই আসবে বলে আমার মনে হয়। ট্যারিফের মানে অনেক বড় পার্থক্য দেখতে পাবেন কয়েক মাসের মধ্যে। তার আগ পর্যন্ত, হাতে পপকর্ণ নিয়ে বসে পড়েন, ‘খেলা’ উপভোগ করেন। ট্যারিফ তুলনামূলক কম থাকায়, চীন-ভারতের বহু তৈনি পোশাকের অর্ডার বাংলাদেশী কোম্পানিগুলোর কাছে আসতে শুরু করেছে। এটা আমাদের জন্য সুখবর। সে কলড ‘উন্নয়নশীল’ দেশ হয়ে গেলে পোশাক রপ্তানী করা কঠিন হয়ে যেতো আমাদের জন্য।