ক্লাস টেনের প্রিটেস্ট পরীক্ষা দিচ্ছি। একশো বারো নম্বর রুমে সিট পড়েছে। রুমের কথাটা এক্সপ্লিসিটলি বলার কারণ, এই রুমে সাধারণত পশ ছেলেপেলেদের সিট পড়ে। মানে, টপারদের আরকি। সেইদিন সম্ভবত বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা ছিলো। সুভা বাদে কিচ্ছু পারিনা আমি, পাশ যদি করা লাগে, দেখে দেখে লেখেই করা লাগবে। এই নিয়ত নিয়েই গেছি। এমসিকিউ এ ম্রা খেয়ে সিকিউ লেখতে শুরু করেছি। রিটেনে আমি বরাবর কম মার্ক পাই, কারণ আমার লেখা দেখতে এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের মতো। আর স্পিড কচ্ছপের। স্কুল লাইফে এমন খুব কমই হইছে যে সাত টা সৃজনশীল সব লেখতে পারছি বাংলা পরীক্ষায়। কিন্তু আজকের এক্সামে কেনো জানি লেখা সুন্দর হচ্ছে। দ্বিতীয় সৃজনশীলের ঘ লেখতেছি। এমন সময় গার্ড এসে আমার খাতার দিকে তাকালেন। তাকিয়ে থাকলেন তো থাকলেনই। ধরা যাক, গার্ডের নাম মুসা ভাই। উনি আবার বাংলারই শিক্ষক। আমার টেনশন হওয়া শুরু করলো, গ ঘ যেমনে বানায়ে লেখতেসি, স্যার আবার ক্ষেপেই গেলো নাকি! দীর্ঘ পৌনে এক মিনিটের আই কন্টাক্ট শেষে স্যার আমার খাতা থেকে চোখ সরালেন। তারপর একটু অবাক হয়েই জিজ্ঞাসা করলেন, “এইটা একশো বারো নাম্বার রুম না?” বললাম, জ্বি স্যার। স্যার বললেন, “রোল কত তোমার?” আমি বললাম, “স্যার, নয়।”
স্যার তব্দা খেলেন। অবাক হয়েই জিজ্ঞাসা করলেন, এতো জঘন্য লেখা নিয়ে নয় রোল হলা কেমনে? অথচ ওইটা ছিলো আমার সবচেয়ে সুন্দর লেখা।