“Give them bread and circuses, and they will never revolt”

রোমান সাম্রাজ্য যখন পতনের দ্বারপ্রান্তে, তখন জনগণ সার্কাস দেখায় বিভোর ছিলো।

এইবার ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভোলিউশানের সঞ্চারপথের মোচর বিন্দুতে থাকা একবিংশ শতাব্দির এই সিভিলাইজেশন এর দিকে তাকান। ম্যাস পপুলেশন অবসেসড হয়ে আছে সেলিব্রিটিদের স্ক্যান্ডাল নিয়ে। ফেসবুকে কী চলে? একটা ট্রেন্ড কতদিন টেকে? আমি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বহুদিন হলো নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি। লেটেস্ট ট্রেন্ডের ব্যাপারে কোনো আইডিয়া নেই আমার। তবে পাঠক মাত্রই স্বীকার করবেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় যা হয়, তার সিংহভাগ আসলে হিউম্যানিটির ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন আনে না।

বর্তমান সময়েও এন্টারটেইনমেন্টকে আসলে ম্যাস পপুলেশনকে একটা ঘোরের মাঝে রাখার হাতিয়ার হিসাবেই ব্যবহার করা হয়। ফেসবুকে আপনি স্বপ্নীলের বন্ধুদের জন্য রান্না করা খাবার দেখবেন। এই ফাঁকে সচিবালয় থেকে আমাদের আমলারা ‘হসপিটালিটি’ শেখার জন্য শিক্ষাসফরে জাপান যাবেন। দুই-একদিন টোকিওর পাঁচ তারকায় থাকবেন। মাউন্ট ফুজি ঘুরে ওসাকা যাবেন। পরিবারের জন্য স্যুভেনিয়ার কিনবেন। এই তাদের শিক্ষাসফর। সরকারের টাকায়। ওনাদের জাপান ট্রিপ শেষ হওয়ার আগেই ফেসবুকে স্বপ্নীলের কন্টেন্ট অবসোলিট হয়ে যাবে, প্রিন্স মামুন সেই জায়গা দখল করবে।

‘হীরক রাজার দেশে’ দেখেছেন? সেখানে রাজামশাই একটা দুর্দান্ত কথা বলেছিলেন।

" ওরা যতোবেশি পড়ে ততোবেশি জানে আর ততো কম মানে "

কথা সত্য। মানুষ যত জানবে, ততোই প্রশ্ন করা শিখবে। রাজার সিংহাসন ততোই নড়বড়ে হবে। রাজামশাই তা জানতেন। সেজন্য রাজ্যের সব পাঠশালা বন্ধের ফরমান জারি করেছিলেন।

বর্তমান যুগের রাজামশাইদের অবশ্য একটা হ্যাপা পোহাতে হয়। পাঠশালা বন্ধ করার সুযোগ নেই। প্রজারা রেগে যাবে। এর সলিউশান অবশ্য আছে ওনাদের কাছে। দেশের পাঠশালাগুলোকে অলমোস্ট নন ফাংশনিং করে রেখেছেন তারা। সেখানে ততোটুকুই শেখানো হয়, ঠিক যতোটুকু ওনারা চান যে আমরা শিখি।

এই কথাটা আন্তর্জাতিক স্কেলেও সত্য। ফিলিস্তিনে চালানো ইজরায়েলের ওয়ার ক্রাইম তো আমরা নিজ চোখে দেখেছি। কিন্তু, যুদ্ধের এই পুরোটা সময় জুড়ে আরব দেশগুলোতে টুইটারে ট্রেন্ডিং টপিক কী ছিলো জানেন? ‘ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো’ এবং ‘আরব লীগ’। জ্বী হ্যাঁ।

তেল বিক্রি করে অঢেল কাগজ ঘরে তুলেছে ওরা। কাগজের নাম ডলার। সেই ডলারের মাধ্যমে জনগণের ‘রুটির’ যোগান হয়ে যায়। আর সার্কাস হিসাবে ফুটবলকে ইন্ট্রোডিউস করা হয়েছে। ইনসাইডার মাংকির তথ্য অনুযায়ী পর্নোগ্রাফি কনজিউম করা শীর্ষ দেশগুলোর মাঝে ওদের সংখ্যাই বেশি। সৌদি আরব, ইরান, মরক্কো, তুরষ্ক।

দেখেন, মানুষের মস্তিষ্কে চিন্তার উদ্ভব হয় অপারগতা থেকে। একটা গরুকে যদি আনলিমিটেড ঘাসের সাপ্লাই দেওয়া হয়, তাহলে কি সে তার বদ্ধ গোয়ালঘর নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ পাবে?

পশ্চিমে একটা কথা ইদানিং জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, “The state owns your children. You don’t.” কেননা কোনো বিষয়ে আপনার-আমার অপিনিয়ন কী হবে, কোনটা ঠিক-কোনটা ভুল, সেটা রাষ্ট্রযন্ত্রই ঠিক করে দেয়। ছোটবেলা থেকে আমাদেরকে অল্প অল্প করে রাজামশাইয়ের ‘ন্যারেটিভ’ গেলানো হয়।

আমরা অহেতুক জিনিস নিয়ে মাতাল হয়ে আছি। ইন দ্য মিন টাইম, আমাদের অগোচরে অনেক কিছু হচ্ছে। আমরা তা জানিনা।

‘রোমান সার্কাস’ পনেরো ডিসেম্বর, দুইহাজার পঁচিশ রাত্রি একটা বেজে বারো মিনিট