সিল্ক রোড ধরে হাঁটতে চাই। সেন্ট্রাল এশিয়া ঘোরার খুব ইচ্ছা আমার। ওদের সংস্কৃতি, ভৌগোলিক অবস্থান আমার কাছে ফ্যাসিনেটিং লেগেছে বরাবরই। বোখারা-সামারখান্দ ঘুরে চলে যেতে চাই আনাতোলিয়ায়। সাথে ইস্তাম্বুলে সাইড কোয়েস্ট। এরপর আন্দালুশ, পেপাল স্টেইট হয়ে সুইস অ্যাল্‌পস। ভাইকিংদের মতো চলে যেতে চাই স্ক্যান্ডানেভিয়াতে। রাতের আকাশে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকবো নর্দার্ন লাইটের দিকে। বাল্কান স্টেইটগুলোর কথা ভুলে গেলে চলবে? চাওশেস্কু, টিটোর দেশ ঘুরবো। ড্রাকুলা না থাকলেও ভ্লাদ আছে। ভ্লাদের ট্রান্সলভেনিয়া ঘুরে দেখবো। ইস্টার্ন ইউরোপ হয়ে চলে যাব পেট্রোগ্রাদে। মাঝপথে বিস্তীর্ণ গমক্ষেত, নীল আকাশ দেখে হয়তো থেমে পড়বো। এক ফুসফুস বাতাস নিয়ে ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলপথ ধরে চলতে থাকবো পূর্বদিকে। ডায়োমিড আইল্যান্ডসের মাঝে যদি কঠিন বরফ পাই, চলে যাবো আলাস্কায়। জারের জন্য আফসোস হবে অবশ্য তখন। আলাস্কান ট্রাইবদের খু্ঁজে বের করবো। কথা বলবো। কানাডার সবুজ-হলুদ পাইনফরেস্ট পেরিয়ে নায়াগ্রা পৌঁছে হতাশ হবো। তারপর দৌঁড়ে চলে যাবো নেভাডার মরুভূমিতে। একরাত সেখানে ক্যাম্প করলে মন্দ হয়না। কালপুরুষ, এন্ড্রোমিডা দেখতে পাবো। এরিয়া ফিফটি ওয়ানে ইউএফও থাকলে সেটাও। তারপর আমার লক্ষ্য হবে নেটিভ আমেরিকানদের সাথে দেখা করা। ওদের মিথোলজি শোনা। পানামা ক্যানাল পার হয়ে চলে যাবো ডেরিয়েন গ্যাপে। আমাজন পারি দিবো। কে জানে, নতুন কোনো এল ডোরাডোর খোঁজ পেয়ে যাই কি-না! ব্রাজিলে মিউট্যান্ট মশার কামড় খাবো বটে, কিন্তু সামনের ইন্টারেস্টিং লাতিন আমেরিকা দেখার লোভে পথ চলতে থাকবো। আর্জেন্টিনা-চিলির অলিগলি ঘুরবো। ওদের গান শুনবো। ফোকল্যান্ড আইল্যান্ডে পেঙ্গুইনদের সাথে কোলাকুলি করেই অতলান্তিক পারি দিতে বের হবো। পথিমধ্যে ত্রিস্তান দা কুনায় না থামলে চলে? ওখানে দুদিন থেকে, সাগর পারি দিয়ে পৌঁছাব উত্তমাশা অন্তরীপে। আফ্রিকায়। কেপ টাউন, লেসোথো ঘুরবো। সোয়াযিল্যান্ডও। কঙ্গোনদীর ঢাল নির্ণয় করে চলে যাবো সাভানায়। হাতি-জিব্রা-জিরাফ দেখবো। জলহস্তিও। নীলের প্রপৌত্রদেরকে ধরে ধরে আলেকজান্দ্রিয়া যাব। এন্টোনির কফিনটা কি তখনও থাকবে? আর ক্লিওপেট্রার? এবাউদিসেও যাব হয়তো। কায়রো ঘুরে সিনাই উপত্যকা দিয়ে বেথলেহেম যাব। কোনো নেটিভের সাথে ভাব জমিয়ে ওদের গ্রেপফিল্ড ঘুরে দেখতে চাইবো। না করবেনা নিশ্চয়! ফালাস্তিনে যখন যাচ্ছিই, জেরুজালেম তো ঘুরে দেখতেই হবে! জর্ডানে মৃত সাগরে যাব। সাগরের নিচে যারা আছে, ওদের কথা ভেবে ঘণ্টাদুয়েক হাসবো। আরব বেদুঈনদের সাথে গল্প করে চলে যাব পারস্যে। টাইগ্রিস আর ইউফ্রেটিসের মধ্যিখানে। রুমির কয়েক লাইন কবিতা পড়ে ইয়াযিদিকদের খোঁজ করবো। মান্ডেয়নদের সাথে ওদের এথনিসিটি নিয়ে গল্প-গুজব করার পর হয়তো থামবো কান্দাহারে। আফগান খাবার খাবো। আফগানিস্তান এসেছি, আর আবদুর রহমানের পানশিরে যাবো না? তা হয় কী করে? পানশিরে নাকি তুলোর মতো তুষার পড়ে। আবদুর রহমানের কথা যাচাই করে দেখবো তখন। এরপর থামবো কাশ্মিরে। ঝিলম নদীতে নৌকা নিয়ে ঘুরবো কিছুক্ষণ। তারপর মহারাষ্ট্র। নাসিক। সবুজে ঘেরা পাহাড় ভেদ করে কনকান রুটের একটা ট্রেনে চড়বো। সাউথ ইন্ডিয়া ঘুরে উঠে পড়বো বিবেক এক্সপ্রেসে, নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়ায় এসে নামবো। দিব্রুগড় থেকে চলে যাবো মিজোরামে। বৃষ্টিতে ভিজবো। এরপর কোহিমা হয়ে মিয়ানমারে। ম্রাউক-উ ঘুরে দেখবো। আরাকান ঘুরে, ইয়াংগুন হয়ে চলে যাবো কম্বোডিয়ায়। ওখানকার প্রগৈতিহাসিক পাহাড়ী নিদর্শন দেখবো। তারপর ভিয়েতনাম। ওদের জিওগ্রাফি সম্পর্কে সরেজমিনে দেখতে হবে। কিছু তো ইন্টারেস্টিং আছেই ভিয়েতনামে। আমেরিকার সৈন্যরা নাকানি-চুবানি খেয়েছে ওই মাটিতে! ফিলিপাইনের সেবুতে হয়তো থাকবো কিছুদিন। তারপর পিটক্যারিন্স আইল্যান্ডে যাবো। বাউন্টি বিদ্রোহের গল্প শুনবো। থেকে যেতে মন চাইবে সেখানে। কিন্তু মনকে মানিয়ে নিয়ে তাহিতি চলে যাবো। মার্শাল আইল্যান্ডস, পালাউ, টুভালু কি ততোদিনও টিকে থাকবে? এরপর অস্ট্রেলিয়া। ওখানকার এবরিজিনালদের সাথে তামিল ভাষায় মশকরা করে দেখবো, দ্রাবিরদের ভাষা ওনারা এখনও বোঝেন কি-না! নিউজিল্যান্ডে মাওরিদের হাকানৃত্য দেখবো। সাথে ওখানকার প্রকৃতি। দেখে চলে যাবো এন্টার্কটিকায়। ওখানকার রিসার্চ সেন্টারগুলো ঘুরে দেখবো। সাউথপোলের ওপর কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকতে পারলে মন্দ হয়না।

এখন আপাতত ঘুমাতে যাই! এই স্বপ্ন আমাকে ঘুমাতে দিচ্ছেনা।

‘ঘোরার স্বপ্ন’ পাঁচ নভেম্বর, দুইহাজার পঁচিশ রাত্রি দুইটা বেজে তিপ্পান্ন মিনিট।