দেশের Ed-Tech প্ল্যাটফর্মগুলোর অবস্থা কিন্তু এতোটাও শোচনীয় হওয়ার কথা ছিলো না। একটা পুরো জেনারেশন কাদের থেকে শিক্ষা নিচ্ছে আর কাকে আইডিওলাইজ করছে - এ নিয়ে আমাদের সবার সিরিয়াস হবার সময় এসেছে। কখনও টিচার স্বয়ং লাইভ ক্লাসে এসে স্টুডেন্টদের সাথে ফ্লার্ট করেন, ঝগড়া করেন, ২০১২ সালের রুচিহীন কৌতুক শোনান, কখনও তো আবার শিক্ষকের প্রেমিকা কবে টিএসসিতে বসে তার পায়ের নখ কেটে দিয়েছিলেন - এ গল্প শোনান। কেউ কেউ তো আবার নিজেকে এন্ড্রিউ টেট অভ দিনাজপুর ভেবে ফেসবুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের ভিডিও আপলোড দেন। এনারা সবাই কিন্তু স্বঘোষিত শিক্ষক! সবারই কিন্তু হাজার নয়, লাখের ঘরে ছাত্র-ছাত্রী আছে। এদের ক্লাসের ডিউরেশন চার-পাঁচ ঘণ্টা, এমনকি ছয় ঘণ্টা হলেও (গুটিকয়েক এক্সেপশন বাদে) পড়াশোনার গভীরতা দেশের অধিকাংশ মৃতপ্রায় নদীর তুলনায় কম। দেশের ঠুনকো শিক্ষাব্যাবস্থাকে কাজে লাগিয়ে সবাইকে জিপিএ-৫ ধরে দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্য এরা বেশ সফল। এই প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রায় সব টিচারই দেশের সেরা সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র। তারা তাদের জ্ঞান স্টুডেন্টদের মাঝে ঢেলে দেওয়ার বদলে অহেতুক গল্প করেন। ক্লাসের ডিউরেশন বাড়ান। কারণ ইন্ডাস্ট্রিতে কে কত বেশি সময় ধরে ক্লাস নিতে পারলো এ নিয়ে কম্পিটিশন চলে। না, আমি পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে শিক্ষকের কাছে থেকে একটু আধটু ব্রেক বা জীবনমুখী উপদেশ পাওয়ার বিপক্ষে নই। তবে সেই ব্রেক যখন রুচিহীনতার পর্যায়ে চলে যায়, তখন একটা ছাত্র বুঝতে পারে যে তার সময়, শ্রম, মেধা, টাকা - সবই অপাত্রে বিসর্জিত হয়েছে। কিন্তু একটা গাড়ির মতো কিন্তু সেই ছাত্রের জীবনে রিভার্স গিয়ার নেই, সে তার জীবন থেকে চলে যাওয়া সেই সময়টুকু আর ফিরে পায় না। শিক্ষা অবশ্যই একটা ব্যাবসা - এতে কোনো সন্দেহ নেই। আপত্তিও নেই। কিন্তু যে সব ‘শিক্ষক’ শিক্ষার চেয়ে ব্যাবসাকে বড় করে দেখেন - তাদের বিরুদ্ধে আমার আপত্তি আছে। দেশের অধিকাংশ এড-টেক প্লাটফর্ম তাদের কন্টেন্টের মান এতো নিচে নামিয়েছে কারণ তারা জানে যে তাদের টার্গেট অডিয়েন্স এখনও নাবালক, নির্বোধ। তাদের সামনে পাশাপাশি দুইটা প্লেটে পুষ্টিকর খাবার আর সুস্বাদু খাবার রাখা হলে তারা সুস্বাদু খাবারটাকেই বেছে নেবে। একারণেই তারা তাদের ক্লাসগুলোকে পুষ্টিকর কম, সুস্বাদু বানানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। কথার জালে ফাঁশিয়ে প্রতারিত করেছে হাজারো ছাত্র-ছাত্রীকে। ভালো ছাত্র হলেই কিংবা স্মার্টবোর্ড থাকলেই ভালো শিক্ষক হওয়া যায় না। শিক্ষকতা পেশাটা অনেক সম্মানের, সংযমের।

’edTech’ দুই মার্চ, দুই হাজার চব্বিশ

(লেখাটা অনেক আগের। এখানে রেখে দিচ্ছি। এ লেখা গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট এবং বানানগত নানা ত্রুটি বিদ্যমান।)