এসএসসি শেষ হইছে। কয়েকদিন চিল করবো কী, ইন্টারের ম্যাথ পড়া শুরু করা লাগলো। প্রাইভেট তাও আবার সকাল সাড়ে ছয়টায় শুরু। ম্যাট্রিক্স পড়াচ্ছেন স্যার। “তোমরা সবাই কেতাব স্যারের ফার্সট পেপার কিনে নিও”, তিনি বললেন। সবাই গুড বয়ের মতো সমস্বরে “জ্বী স্যার” বললাম। অথচ আমরা সবাই জানি, আমরা কেউই বই কিনবো না। শুক্বুর শুক্কুর আট দিন হইছে এসএসসি শেষ হওয়ার। বই কেনার এখনই কী হইছে?
পরেরদিন ক্লাসে স্যার বললেন, “বই বের করো।” আমরা বললাম, “নাই।” “কবে কিনবা?” “আজকেই, স্যার!'
এইভাবে কয়েকদিন গেলো।
একদিন স্যার আমাদের এই দুর্গতি দেখে জ্বালাময়ী এক ভাষণ দিলেন। ভাষণটা রেকর্ড করা গেলে প্রমাণ করার চেষ্টা করা যেতো, ওই ভাষণ উইলসন চার্চিল বা আব্রাহাম লিংকনের ভাষণের চেয়েও বেশি গুসবাম্পিং ছিলো। নাহ, আসলেই। বেশি গাফিলতি করতেসি। আজকে সত্যিই বই কেনা উচিত। সবাই মিলে ঠিক করা হলো, আজ বিকালে আমরা বই কিনতে বের হবো।
বিকালবেলা। বইয়ের মার্কেটে আমি, রুপম, আর ‘এস. কামান’ (ছদ্মনাম)। বহু দোকান। কোনটায় ঢোকা যায়? কামান বংশের প্রতিষ্ঠাতা জনাব এস. কামানের প্রস্তাবে একটা দোকানে ঢোকা হলো। বইয়ের দাম চায় চারশো টাকা। একাডেমিক বইয়ের খবর নিতে যেয়ে চোখ পড়ে গেলো আউটবইয়ের দিকে। ওদের কাছে তিন গোয়েন্দার অনেকগুলো ভলিউম এখনও আছে। পঁচিশ সালে এসেও। সেবা প্রকাশনীর কালেকশন দেখে মুখে পানি চলে এলো। মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের বইগুলাও আছে। সিদ্ধান্ত হলো, চারশো টাকায় একটা একাডেমিক বই কেনার কোনো মানেই হয়না। মার্কেটের ভিতরে গেলে আরও কমে পাওয়া যাবে। বহু খোঁজাখুঁজির পর একটা দোকানে তিনশো নব্বই টাকায় বই পাওয়া গেলো। এর চেয়ে কমে কোথাও পাওয়া গেলে বোঝা লাগবে দোকানদার ভুল দাম বলছে। দেরি না করে বই কিনে নিলাম। এখন গন্তব্য পুরানা বইয়ের দোকান। ২০১৭ এডিশনের একটা বই বিক্রি করতে হবে। একশো টাকা পাইলেই খুশি। রুপমের কাজ থাকায় সে আগেই বাড়ি চলে গেলো। আমি আর কামান যাচ্ছি পুরান বইয়ের দোকানে। দোকানটা যে গলিতে, তার মুখেই একটা হোটেল। গ্রিলের গন্ধ নাকে আসতেছে। লোভ সামলায়ে বই ওয়ালার কাছে বই নিয়ে গেলাম। সাল দেখে কইলো, বাইশ সালের বই-ই নেই না, তোমারডা তো সতেরোর! মিশন আনসাক্সেসফুল। বাসায় ফিরে যেতে হবে। গলির মুখে এসে এইবার আর নিজেকে সামলানো গেলোনা। এস. কামানও পারলো না। ঢুকে পড়লাম রেস্তোরায়। কী খাওয়া যায়? এক কোয়ার্টার গ্রিল আর দুইটা তন্দুরি রুটি অর্ডার দেওয়া হলো। খাওয়া শেষের দিকে। একটু পানীয় কিছু না হলে হয়? কামান বললো মোজোর কথা। আমি স্যুগার ইন্টেক কমায়ে দিছি। তারপরও বললাম, হয়ে যাক! বিল আসলো। একশো নব্বই টাকা।
বইয়ে দশ টাকা বাঁচাতে যেয়ে, একশ নব্বই টাকার ভোজন করে আসলাম!
(গল্পটা বেশ কয়েকদিন আগের। আজ লেখতেসি।)