ঋতু হিসেবে বসন্ত রাজকীয়ই বটে। বহুল আকাঙ্ক্ষীতও। এদেশে বসন্ত এসেছিলো ক’দিন আগে। জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুনে’ নয়। জুলাইয়ে। বসন্ত আসে। সাথে আসে একরাশ আশা। নতুন দিনের স্বপ্নে পাখিরা কলকাকলি শুরু করে। সে কিচিরমিচির সহ্য হয় কজনের? বসন্তে স্বপ্ন বোনা শুরু করা যায়, কিন্তু সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য, শারদের সুবাস পাওয়ার জন্য, প্রত্যয়ী হতে হয়। বসন্ত আসলে দুদিন পর কালবোশেখি আসবেই। যারা ঘুমিয়ে শুধু স্বপ্নই দেখে, কালবোশেখিতে তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারেনা। ঝড়ো হাওয়া আর বিদ্যুতের ঝলকানির পর সে বসন্ত-কোকিলদের আর খুঁজে পাওয়া যায়না। শরৎ আসতে আরও অনেক দেরি। এরইমাঝে আষাঢ়ে গল্পে মসগুল হয় প্রকৃতি। শারদ যেন তাদের হাতেই, এই এলো বলে। এদিকে হরকা বানে নাজেহাল অবস্থা, ওদিকে তাদের কল্পিত ‘শারদের’ গল্প। যারা কোনোদিন প্রকৃতি নিয়ে ভাবেনি, তাদেরকে আষাঢ়ে গল্প শোনানো সহজ। তারা গল্পে ডুবে থাকবে, ওদিকে গল্পবাজেরা সেই নির্বোধ স্বপ্নচারীদেরকে দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহার করবে। শেষমেশ শারদ আসবে সেই গল্পবাজদের জীবনে, আর আমরা বাস্তুহীন কীটের মতো শীতে কাঁতরাবো।

এতো প্রতিকূলতা পেরোতে না জানলে, চোখ-কান খোলা না রাখলে, বসন্তের পর শারদ আসবে কী করে? শুধুমাত্র স্বপ্নচারীদের জন্য শারদ না।